দেশকে আফগানিস্তান,সিরিয়া ও লিবিয়া হতে দেয়া যাবে না: একশ্রেণীর আলেমের হঠকারী ফতোয়া এবং সরকারের রক্তের হলিখেলা দ্রুত বন্ধ করতে হবে
———–
➧ আমরা আমাদের দেশকে আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়ার মত দেখতে চাই না। ফিতনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ধৈর্যশীল হওয়ার বিকল্প নেই। মাথা গরম করে নিজেরা নিজেরা লড়াই ও রক্তপাতে লিপ্ত হলে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নাস্তিকরা মজা নিবে। ইসলাম মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা আগের চেয়ে চরম হুমকির মধ্যে পড়বে।
আমরা দেখতে পাচ্ছি, খাওয়ারেজদের আকিদা লালন কারী কিছু নামধারী আলেম উল্টা-পাল্টা ফতোয়া দিয়ে (বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে গণহারে কাফের-মুরতাদ বলে ফতোয়া দিয়ে) দেশে বিশৃঙ্খলা ও গৃহযুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করছে-যেভাবে ইরাক, সিরিয়া ও লিবিয়াতে করেছে। অথচ কারও অজানা নয় যে, আগের থেকে মারাত্মক খারাপ অবস্থায় আছে সেখানকার মানুষ। এতে ইসলাম ও মুসলিমদের কোনও ফায়দা হয় নি।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিতনার সময় করণীয় প্রসঙ্গে বলেছেন,
إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتَنٌ أَلاَ ثُمَّ تَكُونُ فِتْنَةٌ الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي فِيهَا وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي إِلَيْهَا أَلاَ فَإِذَا نَزَلَتْ أَوْ وَقَعَتْ فَمَنْ كَانَ لَهُ إِبِلٌ فَلْيَلْحَقْ بِإِبِلِهِ وَمَنْ كَانَتْ لَهُ غَنَمٌ فَلْيَلْحَقْ بِغَنَمِهِ وَمَنْ كَانَتْ لَهُ أَرْضٌ فَلْيَلْحَقْ بِأَرْضِهِ
“অচিরেই ফিতনা দেখা দিবে। সাবধান, আবার ফিতনা দেখা দিবে। তখন বসে থাকা ব্যক্তি চলমান ব্যক্তি থেকে ভাল থাকবে। আর চলমান ব্যক্তি তখন দ্রুতগামী ব্যক্তি হতে ভাল থাকবে। সাবধান যখন ফিতনা অপতিত হবে অথবা সংঘটিত হবে, এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি উটের মালিক সে তার উট নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। আর যার ছাগল আছে সে তার ছাগল নিয়ে ব্যস্ত থাকুক এবং যার জমিন আছে সে তার জমিন নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। [সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ৫৫/ ফিতনা সমূহ ও কিয়ামতের নিদর্শনা বলী]
সুতরাং ফিতনা ফাসাদ সংকুল পরিবেশে নিজেদের দীন, অর্থ-সম্পদ, জান-মাল, স্ত্রী পরিবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকেই বেশি মনোযোগী হতে হবে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দিকে পা বাড়ানো যাবে না।
◍ মানুষের সম্পদ নষ্ট করা, গাড়ি পোড়ানো, দোকানপাট ভাঙচুর করা, সরকারী বা বেসরকারি সম্পদে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো, কোনও নিরপরাধ মানুষের শরীরে আঘাত করা, রক্তপাত করা কবিরা গুনাহ। রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেয়া চরম অন্যায়। ইসলামে তা অনুমোদিত নয়।
সুতরাং সরকারের সাথে দ্বিমত পূর্ণ বিষয়গুলো আলাপ-আলোচনা, স্মারকলিপি প্রদান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ইত্যাদি মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। সরকার কথা না শুনলে ধৈর্য ধারণ করে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে। কিন্তু শক্তি-সামর্থ্য ও কপর্দকশূন্য নিরীহ মাদরাসার ছাত্র ও যুবকদেরকে রাষ্ট্রশক্তির মোকাবেলায় নামিয়ে দেয়া কোনও দূরদর্শিতা ও বুদ্ধিমত্তার কাজ হতে পারে না।
◍ বাস্তবতা হল, বারবার মাদরাসার ছাত্র, শিক্ষক ও নিরীহ জনগণের রক্ত রঞ্জিত রাজপথ বেয়ে ক্ষমতা লোভীরা তাদের ক্ষমতায় মসনদে আরোহণ করেছে কিন্তু ইসলামের কোনও উপকার হয় নি।
সুতরাং অদূরদর্শী নেতৃত্ব ও গলাবাজ নেতাদের স্টেজ কাঁপানো বক্তৃতায় রক্ত গরম করে ক্ষমতালোভীদের স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়া যাবে না।
➧ সরকারকে বলব, গণতান্ত্রিক ও বাক স্বাধীনতার দেশে বুলেট দ্বারা জনগণের কথা বলার অধিকার হরণ করে নিজেদেরকে গণতান্ত্রিক পরিচয় দেয়া চরম লজ্জাজনক। ইতোমধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সরকারের হার্ড লাইন, হিংস্র ও আক্রমণাত্মক মনোভাবের কঠোর সমালোচনা করেছে।
সুতরাং একদিকে আইনের শাসন, সংবিধান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ইত্যাদি শয়তানী ও মিথ্যা শ্লোগান দিবেন অন্য দিকে পুলিশ, বিজিবি এবং দলীয় গুণ্ডা সহকারে রাতের অন্ধকারে বিদ্যুৎ ও সর্বপ্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে মাদরাসার নিরীহ ছাত্র-শিক্ষকদের হিংস্র দানবের মত আক্রমণ করবেন, মসজিদের মধ্যে ইজরাইলি ইহুদিদের মত গুলি চালিয়ে মুসল্লিদের উপর আক্রমণ চালাবেন, পাখির মত মানুষ হত্যা করবেন-তা হতে পারে না। এ চরম অন্যায়ের প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নাই।
ভারতের ব্রাহ্মণ্য বাদী সরকারকে খুশি করার এই পদলেহন নীতি পরিবর্তন না করলে ইতিহাস আপনাদেরকে ক্ষমা করবে না।
ইতিহাস সাক্ষী, জালিমদের পরিণতি হয় খুবই ভয়াবহ। সময়ের ব্যবধানে তাদেরকে করুণ পরিণতির সম্মুখীন হয়। আখিরাতে তাদের জন্য অপেক্ষা করছেে ভয়াবহ শাস্তি। আল্লাহ বলেন,
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيْهَا وَغَضِبَ اللّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَه عَذَابًا عَظِيْمًا
“আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে কোনও মুমিনকে হত্যা করবে, তার শাস্তি জাহান্নাম। সেখানেই সে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হবেন, তার উপর অভিসম্পাত করবেন এবং তার জন্য মহা শাস্তি প্রস্তুত করে রাখবেন।” (সূরা নিসা: ৯৩)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
اتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهَا لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ
“মাজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাক। কারণ তার বদদোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা নেই।।” (সহীহ বুখারি ও মুসলিম)
সুতরাং অনতি বিলম্বে রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে জনগণের উপর মাফিয়া গিরি, জুলুম-নির্যাতন এবং রক্তের হলিখেলা বন্ধ করুন, মানুষের বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করুন এবং দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করুন।
আল্লাহ আমাদের দেশকে সব ধরণের বিশৃঙ্খলা ও ফিতনা থেকে হেফাজত করুন।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ। আভাস মাল্টিমিডিয়া.কম এ ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ণরূপে বিশুদ্ধ ঈমান ও আমলের দাওয়াতী ওয়েবসাইট। এটি সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত এবং কোন প্রকার দল / সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমাদের আক্বীদাহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদাহ। আমাদের মানহাজ সালাফে সালেহীনদের মানহাজ। আমাদের দাওয়াত শিরকমুক্ত, কুফরমুক্ত, নিফাক্বমুক্ত ও বিদ‘আতমুক্ত ঈমান ও আমলের উপর প্রতিষ্ঠিত। তাওহীদ ও সুন্নাত ভিত্তিক ঈমান ও আমল গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।


Leave a Reply