সালাতে কাতার সোজা করার গুরুত্ব এবং সালাত রত অবস্থায় কাতার থেকে এগিয়ে বা পিছিয়ে গেলে করণীয়
▬▬▬◈◉◈▬▬▬
প্রশ্ন: সালাতে কাতার সোজা করার গুরুত্ব কতটুকু এবং সালাত রত অবস্থায় কাতার থেকে এগিয়ে বা পিছিয়ে গেলে কী করণীয়?
উত্তর:
◈ সালাতে কাতার সোজা করার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। তিনি কাতারে বক্রতা মুসল্লিদের অন্তরের মাঝে বক্রতা ও পারস্পারিক মতানৈক্য সৃষ্টির কারণ হিসেবে হাদিসে উল্লেখ করেছেন।
– আবু মাসঊদ আনসারি রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের শুরুতে আমাদের কাঁধগুলিতে হাত দিয়ে পরস্পরে মিলিয়ে দিতেন এবং বলতেন,
اسْتَوُوا وَلاَ تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ
“তোমরা কাতার সোজা কর, বিভক্ত হয়ে দাঁড়িয়ো না। তাতে তোমাদের অন্তরগুলি বিভক্ত হয়ে যাবে।” [মুত্তাফাক্ব আলাইহি, মিশকাত হা/১০৮৮, ‘কাতার সোজা করা’ অনুচ্ছেদ-২৪।
– বুখারির অন্য বর্ণনায় এসেছে
أَقِيْمُوْا صُفُوْفَكُمْ وَ تَرَاصُّوْا
“তোমরা কাতার সোজা কর এবং পরস্পরে ভালভাবে (কাঁধ ও পা) মিলাও’। [বুখারি হা/৭১৯, আযান অধ্যায়-১০, অনুচ্ছেদ-৭২; ঐ, মিশকাত হা/১০৮৬ ‘কাতার সোজা করা’ অনুচ্ছেদ-২৪; মির‘আত ৪/৪।]
◈ কাতার সোজা করাকে সালাত কায়েমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
سَوُّوا صُفُوفَكُمْ فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصُّفُوفِ مِنْ إِقَامَةِ الصَّلاَةِ
“তোমরা কাতার সোজা কর, কেননা কাতার সোজা করা সালাত প্রতিষ্ঠার অন্তর্ভুক্ত।” [মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহি, মিশকাত হা/১০৮৭, ‘কাতার সোজা করা’ অনুচ্ছেদ-২৪।]
সুতরাং সালাত রত অবস্থায় কোনও মুসল্লি যদি বুঝতে পারে যে, সে অসতর্কতা বশত: কাতার থেকে একটু সামনে বা পেছনে সরে গেছে তাহলে সে তৎক্ষণাৎ সরে এসে কাতার সোজা করে নিবে এবং সতর্ক হবে যেন, আগামীতে কাতার থেকে আগে-পিছে সরে না যায়। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ। আভাস মাল্টিমিডিয়া.কম এ ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ণরূপে বিশুদ্ধ ঈমান ও আমলের দাওয়াতী ওয়েবসাইট। এটি সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত এবং কোন প্রকার দল / সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমাদের আক্বীদাহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদাহ। আমাদের মানহাজ সালাফে সালেহীনদের মানহাজ। আমাদের দাওয়াত শিরকমুক্ত, কুফরমুক্ত, নিফাক্বমুক্ত ও বিদ‘আতমুক্ত ঈমান ও আমলের উপর প্রতিষ্ঠিত। তাওহীদ ও সুন্নাত ভিত্তিক ঈমান ও আমল গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।


Leave a Reply